অমুসলিমরদের জামায়াতের সদস্য হতে যোগ্যতা কি

১৮ জানুয়ারি ২০২৬
০৩:০২ PM
১৬১ views

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হলেও, দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অমুসলিমদেরও সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দলটির কার্যক্রমে অমুসলিমদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

 

  #  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য বা সদস্যা হিসেবে জামায়াতের নিয়ম শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তসমূহ নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলতে হবে # জামায়াতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে # বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য একনিষ্ঠভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে # উপার্জনে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা যাবে না।

 

জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র এবং সাম্প্রতিক দলীয় কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে অমুসলিমদের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও নিয়মাবলি নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:


 

জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হতে অমুসলিমদের যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন :-

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক পরিধি বাড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করতে অমুসলিম নাগরিকদের সদস্য করার প্রক্রিয়া আরও সহজতর করেছে। দলটির গঠনতন্ত্রের ধারা-১২ অনুযায়ী, বাংলাদেশের যেকোনো অমুসলিম নাগরিক নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও যোগ্যতা সাপেক্ষে দলের সদস্য হতে পারেন।

অমুসলিম সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসমূহ: 

 

১. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির সাথে ঐকমত্য: জামায়াতের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বাইরে দলটির যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোর সাথে একমত হতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পরিকল্পনায় আস্থাশীল হতে হবে।

২. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিশ্বাসী হওয়া: আবেদনকারীকে এই বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শাসনক্ষমতা ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন, চরিত্রবান ও স্বার্থহীন লোকদের হাতে থাকা প্রয়োজন।

 

                                                                    প্রতিদিনের নামাজের সময়সূচি

 

 

৩. নৈতিক মানোন্নয়নের চেষ্টা: দলের নীতি অনুযায়ী, প্রত্যেক সদস্যকে ব্যক্তিগত জীবনে উচ্চ নৈতিকতা বজায় রাখার এবং নিজের চরিত্রকে উন্নত করার ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

৪. কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার: বাংলাদেশ

কে একটি রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ 'কল্যাণ রাষ্ট্র' হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে।

৫. দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।


সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া

জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অমুসলিমরা সাধারণত 'সহযোগী সদস্য' হিসেবে যোগদান করেন। তবে তাদের জন্য পৃথক একটি ইউনিট বা উইং (অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'সংখ্যালঘু ইউনিট' বা 'ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শাখা') কাজ করে। সদস্য হতে আগ্রহী ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়, যেখানে উপরোক্ত শর্তাবলি মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়।

 

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবং ২০২৫-২৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন সংখ্যালঘু সমাবেশে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জামায়াত বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র চায়। তিনি বলেন, "নাগরিক অধিকারে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।" সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক নাগরিক জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ফরমে স্বাক্ষর করে দলে যোগ দিচ্ছেন।

পার্থক্য যেখানে:

সাধারণ মুসলিম সদস্যদের জন্য ইসলামের বুনিয়াদি বিশ্বাস ও ইকামাতে দ্বীনের (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) যে কঠোর বাধ্যবাধকতা থাকে, অমুসলিম সদস্যদের ক্ষেত্রে সেই ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। তারা কেবল দলের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের ভিত্তিতে সদস্য হতে পারেন এবং নিজেদের ধর্মীয় আচার-আচরণ স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন।


আপনি কি জামায়াতে ইসলামীর অমুসলিম শাখার সদস্য হওয়ার ফরম বা নির্দিষ্ট কোনো এলাকার যোগদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান?

                                                                   কমেন্ট করে জানান 

 

সর্বশেষ খবর

অনুসন্ধান করুন

Su
Mo
Tu
We
Th
Fr
Sa

বিশেষ কিছু

নিজেকে জানুন। এখুনি ক্লিক করে দেখে নিন আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে

এক্সপ্লোর করুন

শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই আর্টিকেল শেয়ার করুন